সহবাস একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া, যা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক এবং আবেগীয় দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় কিছু পুরুষ সহবাসের সময় বীর্যপাত করতে সমস্যার সম্মুখীন হন। এটি বেশ উদ্বেগজনক হতে পারে এবং দাম্পত্য জীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই সমস্যাটি "Delayed Ejaculation" বা "বিলম্বিত বীর্যপাত" নামে পরিচিত। আজকের এই লেখায় আমরা সহবাসের সময় বীর্যপাত না হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো এবং এর সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করব।
বীর্যপাত না হওয়ার কারণ সমূহ
১. মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ
মানসিক চাপ বা উদ্বেগ যৌন জীবনের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। কাজের চাপ, সম্পর্কের সমস্যা, বা পারিবারিক দুশ্চিন্তা পুরুষদের যৌন উত্তেজনা এবং বীর্যপাতের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
২. হরমোনজনিত সমস্যা
যদি শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকে, তবে এটি যৌন উত্তেজনা এবং বীর্যপাতের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও এই সমস্যার কারণ হতে পারে।
৩. ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু ঔষধ, বিশেষ করে ডিপ্রেশনের জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ বা স্নায়বিক সমস্যার জন্য ব্যবহৃত ঔষধ বীর্যপাত প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে।
আরও পড়ুন: মেয়েদের সহবাস না করলে কি ধরনের ক্ষতি হয়?
৪. স্নায়বিক সমস্যা
স্নায়বিক সমস্যাগুলি, যেমন- মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ডের আঘাত, পারকিনসন্স ডিজিজ বা ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর সমস্যা, বীর্যপাতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
৫. অ্যালকোহল এবং মাদকদ্রব্যের ব্যবহার
অতিরিক্ত অ্যালকোহল বা মাদকদ্রব্য গ্রহণ যৌন ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। এটি বীর্যপাতের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে পারে।
৬. সম্পর্কগত সমস্যা
যদি দম্পতির মধ্যে মানসিক দূরত্ব বা সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকে, তবে এটি যৌন জীবনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের মানসিক চাপ অনেক সময় শারীরিক প্রতিক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে।
৭. স্বাস্থ্যগত সমস্যা
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যাগুলিও বীর্যপাত না হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
সমাধানের উপায়
১. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি এই সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে একজন যৌন বিশেষজ্ঞ বা ইউরোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। চিকিৎসক সমস্যার মূল কারণ নির্ধারণ করে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করতে পারবেন।
২.মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন
যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি যৌন জীবনের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. ঔষধ পরিবর্তন বা সমন্বয়
যদি কোনো ঔষধ এই সমস্যার কারণ হয়ে থাকে, তবে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গ্রহণ করুন
সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম যৌন স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে। অ্যালকোহল এবং মাদকদ্রব্য এড়িয়ে চলুন।
৫. সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করুন
দাম্পত্য জীবনে খোলামেলা আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং মানসিক সমর্থন অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান সহজ করে তোলে।
৬. থেরাপি গ্রহণ করুন
যৌন থেরাপি বা সম্পর্ক থেরাপি অনেক সময় কার্যকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় মানসিক এবং শারীরিক সমস্যাগুলি সমাধান করা সম্ভব।
উপসংহার
সহবাসের সময় বীর্যপাত না হওয়া একটি জটিল সমস্যা হলেও এটি সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য। সঠিক কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন, এটি কোনো লজ্জার বিষয় নয় বরং একটি স্বাভাবিক শারীরিক সমস্যা, যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করাই সঠিক পথ।
Post a Comment